ভারত থেকে আমদানীকৃত শুকনো খাদ্য-মসলাপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী

দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে আমদানীকৃত পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়েছে সরকার।

দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে আমদানীকৃত পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়েছে সরকার। এছাড়া অনেক পণ্য চাহিদামতো আমদানি করতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। এসব কারণে ভারত থেকে আমদানি হওয়া বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ছে। বিশেষ করে শুকনো খাদ্য ও মসলাপণ্যের দাম কয়েক সপ্তাহ ধরে ঊর্ধ্বমুখী বলে জানা গেছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, আমদানিকারক পর্যায়ে অস্থিতিশীলতা শুরু হয়েছে। অনেকেই চাহিদামতো পণ্য আমদানি করতে পারছেন না। এতে পণ্যগুলোর সরবরাহ চেইনে ব্যাঘাত ঘটছে। কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে ভারত থেকে আমদানি হয় এমন পণ্যের দাম কেজিপ্রতি ২০-৪০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

দেশে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন স্থিতিশীল থাকার পর কয়েক সপ্তাহ ধরে শুকনো খাদ্য ও কিছু মসলাপণ্যের দাম বাড়ছে। এর মধ্যে এক সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে।

তথ্যমতে, কয়েক সপ্তাহ আগেও প্রতি কেজি পেস্তা বাদামের দাম ছিল ২ হাজার ৬০০ টাকা। গতকাল তা বেড়ে কেজিপ্রতি ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ সময় টক আলু বোখারা ও কাজুবাদামের দাম ছিল যথাক্রমে কেজিপ্রতি ৬৯০ ও ১ হাজার ৩০০ টাকা, আগে যা ছিল যথাক্রমে ৪৯০ ও ১ হাজার ১৫০ টাকা।

আরো জানা যায়, কাঠবাদামের দাম কেজিপ্রতি ১ হাজার ১২০ থেকে বেড়ে ১ হাজার ২১০ টাকায় পৌঁছেছে। কয়েকদিনের ব্যবধানে জিরার দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৫০ টাকা। বর্তমানে পণ্যটির দাম পৌঁছেছে কেজিপ্রতি ৫৮০ টাকায়। আগে লবঙ্গর দাম ছিল কেজিপ্রতি ১ হাজার ১৮০ টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে ১ হাজার ৩০০ টাকায় পৌঁছেছে।

দেশের বাজারে আগে গোলমরিচের দাম ছিল কেজিপ্রতি ১ হাজার ২০ টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে ১ হাজার ৭০ টাকায় পৌঁছেছে। গতকাল আস্ত হলুদের দাম ছিল কেজিপ্রতি ২৫০ টাকা, আগে যা ছিল ২১০ টাকা। আস্ত মরিচের দাম ২৯০ থেকে বেড়ে ৩০০ টাকায় পৌঁছেছে। প্রতি বস্তা (২৫ কেজি) সাগুর দাম ৩ হাজার ২৩০ থেকে বেড়ে ৩ হাজার ২৮০ টাকায় পৌঁছেছে। ছোলা বাদামের দাম পৌঁছেছে কেজিপ্রতি ১৬৫ টাকায়। মেথি ১২০ থেকে বেড়ে ১৩০ ও কালোজিরা ৪২০ থেকে বেড়ে কেজিপ্রতি ৪৬৫ টাকায় বেচাকেনা হয়েছে।

জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জের মসলা ও শুকনো খাদ্যপণ্য ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সেকান্দর বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশে বেশ কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম অনেকটা স্থিতিশীল ছিল। তবে ৭-১০ দিনের মধ্যে দাম কিছুটা বাড়ছে। এর মধ্যে ভারতের ওপর নির্ভরশীল পণ্যগুলোর দাম সবচেয়ে বেশি ঊর্ধ্বমুখী। বিশেষ করে ভারত থেকে আমদানি হওয়া মসলা ও শুকনো খাদ্যপণ্যের দাম বেশি বাড়ছে। এর প্রভাব পড়েছে অন্যান্য দেশী ও ভিন্ন উৎস দেশ থেকে আসা পণ্যের দামে।’

ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি পণ্যের শুল্ক গড়ে ৫ শতাংশ করে বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি পণ্যের ক্ষেত্রে বিশেষ শর্ত রেখেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন এ সিদ্ধান্তের কারণে অনেকেই আমদানি প্রক্রিয়া বন্ধ রেখেছেন। এখন চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন পণ্যের কিছুটা সংকট রয়েছে। ফলে যেসব প্রতিষ্ঠানের কাছে মজুদ রয়েছে, তারা আগের তুলনায় বাড়তি দামে পণ্য বিক্রি করছে। এছাড়া ভারতের পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় একই ধরনের দেশী পণ্যের দামও ধীরে ধীরে বাড়ছে।

আরও